ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় রেলপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ব্যবসা, চাকরি, শিক্ষা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই রুটে যাতায়াত করেন। আপনি যদি এই রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে যাত্রার আগে ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ভ্রমণের আগে ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া এবং টিকিট বুকিং সম্পর্কিত তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই একটি পোস্টেই আপনি Dhaka to Chittagong Train Schedule, ভাড়ার তালিকা এবং ঘরে বসেই টিকিট কাটার সহজ নিয়মসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য পেয়ে যাবেন।

ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী (Dhaka to Chittagong Train Schedule)

ঢাকা (কমলাপুর) থেকে চট্টগ্রাম রুটে বেশ কিছু আধুনিক আন্তঃনগর (Intercity) এবং এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। নিচে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী দেওয়া হলো –

ট্রেনের নামট্রেন নংঢাকা থেকে ছাড়ার সময়চট্টগ্রাম পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক ছুটি
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস788সকাল 07:00 টাদুপুর 12:15 টামঙ্গলবার
মহানগর প্রভাতী704সকাল 07:45 টাদুপুর 02:00 টানেই (প্রতিদিন)
চট্টলা এক্সপ্রেস802দুপুর 01:00 টারাত 08:30 টামঙ্গলবার
সুবর্ণ এক্সপ্রেস702বিকাল 04:30 টারাত 09:50 টাসোমবার
মহানগর এক্সপ্রেস722রাত 09:20 টাভোর 04:50 টারবিবার
তূর্ণা এক্সপ্রেস742রাত 11:30 টাসকাল 06:20 টানেই (প্রতিদিন)
কক্সবাজার এক্সপ্রেস813রাত 10:30 টাভোর 03:40 টা (চট্টগ্রাম)সোমবার
পর্যটক এক্সপ্রেস815রাত 08:00 টারাত 01:15 টা (চট্টগ্রাম)রবিবার

দ্রষ্টব্য: কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস মূলত ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেন হলেও এগুলো চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই সময়সূচী পরিবর্তন করতে পারে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী (Chittagong to Dhaka Train Schedule)

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরার জন্য নিচের সময়সূচীটি অনুসরণ করতে পারেন:

ট্রেনের নামট্রেন নংচট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার সময়ঢাকা পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক ছুটি
সুবর্ণ এক্সপ্রেস701সকাল 07:00 টাদুপুর 12:20 টাসোমবার
চট্টলা এক্সপ্রেস801সকাল 08:30 টাবিকাল 03:50 টাশুক্রবার
মহানগর এক্সপ্রেস721দুপুর 12:30 টাসন্ধ্যা 07:10 টারবিবার
মহানগর গোধূলি703বিকাল 03:00 টারাত 09:25 টানেই (প্রতিদিন)
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস787বিকাল 05:00 টারাত 10:10 টামঙ্গলবার
তূর্ণা এক্সপ্রেস741রাত 11:00 টাভোর 05:15 টানেই (প্রতিদিন)

ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের ভাড়ার তালিকা

আপনার বাজেট এবং পছন্দের সিটের ধরন বা ক্লাস অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • শোভন (Shovan): ২৮৫ টাকা (মেল/এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য)
  • শোভন চেয়ার (S_Chair): ৩৪৫–৪০৫ টাকা
  • প্রথম শ্রেণী চেয়ার (F_Seat): ৪৬০ টাকা
  • প্রথম শ্রেণী বার্থ (F_Berth): ৬৯০ টাকা
  • স্নিগ্ধা এসি সিট (Snigdha): ৬৫৬ টাকা (ভ্যাটসহ ৮-১০% পরিবর্তন হতে পারে, সাধারণত আন্তঃনগরে ৮০৫ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে)
  • এসি সিট কেবিন (AC_S): ৮০৫ টাকা
  • এসি বার্থ/কুপা (AC_B): ১২০৮ টাকা

টিপস: সোনার বাংলা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেস বিরতিহীন লাক্সারি ট্রেন হওয়ায় এগুলোর ভাড়া সাধারণ আন্তঃনগর ট্রেনের চেয়ে সামান্য বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন – ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম

বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট এখন ঘরে বসেই অনলাইন থেকে খুব সহজে কেনা যায়। নিচে পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো দেওয়া হলো:

১। রেজিস্ট্রেশন বা লগইন: প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা “Rail Sheba” অ্যাপে যান। আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকলে এনআইডি (NID) ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিন।

২। ভ্রমণের তথ্য দিন: ‘From’ অপশনে Dhaka এবং ‘To’ অপশনে Chittagong সিলেক্ট করুন। এরপর আপনার ভ্রমণের তারিখ (Date of Journey) এবং পছন্দের ক্লাস (যেমন: Snigdha, S_Chair) নির্বাচন করে ‘Find Tickets’ বাটনে ক্লিক করুন।

৩। ট্রেন ও সিট নির্বাচন: আপনার পছন্দের ট্রেনের পাশে ‘View Seats’ এ ক্লিক করে উপলব্ধ সিটগুলো দেখে নিন এবং আপনার সিট সিলেক্ট করুন।

৪। পেমেন্ট সম্পন্ন করুন: এবার আপনার নাম ও এনআইডি মিলিয়ে নিয়ে বিকাশ (Bkash), রকেট, নগদ কিংবা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করুন।

৫। টিকিট ডাউনলোড: পেমেন্ট সফল হলে আপনার ইমেইলে এবং রেলওয়ে অ্যাকাউন্টে একটি ই-টিকিট (E-Ticket) চলে আসবে। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন অথবা মোবাইলে নিরাপদ রাখুন।

এসএমএস-এর মাধ্যমে লাইভ ট্রেন ট্র্যাকিং পদ্ধতি

আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি বর্তমানে ঠিক কোথায় আছে এবং স্টেশনে পৌঁছাতে কত দেরি হতে পারে, তা লাইভ জানতে পারবেন একটি মেসেজের মাধ্যমেই।

আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
TR <স্পেস> ট্রেনের নাম্বার (যেমন সোনার বাংলার জন্য: TR 788) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নাম্বারে। ফিরতি SMS-এ ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও লাইভ স্ট্যাটাস জানতে পারবেন।

ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের যাত্রা বিরতী স্টেশন

প্রতিটি ট্রেনের স্টেশন-ভিত্তিক যাত্রা বিরতীর তালিকা –

  • Parjotak Express: Dhaka → Biman Bandar → Chattogram → Cox’s Bazar
  • Sonar Bangla Express: Dhaka → Biman Bandar → Chattogram
  • Suborno Express: Dhaka → Biman Bandar → Chattogram
  • Mahanagar Provati: Dhaka → Biman Bandar → Bhairab Bazar → Brahmanbaria → Akhaura → Cumilla → Laksam → Feni → Chattogram
  • Mahanagar Express: Dhaka → Biman Bandar → Narsingdi → Bhairab Bazar → Brahmanbaria → Akhaura → Cumilla → Laksam → Feni → Kumira → Chattogram
  • Chattala Express: Dhaka → Biman Bandar → Narsingdi → Methikanda → Bhairab Bazar → Brahmanbaria → Akhaura → Quasba → Shashidal → Cumilla → Laksam → Nangolkot → Hasanpur → Feni → Kumira → Chattogram
  • Cox’s Bazar Express: Dhaka → Biman Bandar → Chattogram → Cox’s Bazar
  • Turna: Dhaka → Biman Bandar → Bhairab Bazar → Brahmanbaria → Akhaura → Cumilla → Laksam → Feni → Chattogram

ট্রেন যাত্রীদের জন্য কিছু জরুরি টিপস

  • অগ্রিম টিকিট বুকিং: ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে টিকিটের চাহিদা সবসময়ই আকাশচুম্বী। তাই ভ্রমণের তারিখের ১০ দিন আগেই টিকিট কেটে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • এনআইডি সাথে রাখুন: রেলওয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যার নামে টিকিট কাটা, ভ্রমণকালে তার এনআইডি (NID) কার্ড বা জন্ম নিবন্ধনের কপি (ডিজিটাল বা ফটোকপি) সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
  • সময়ানুবর্তিতা: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করুন।
  • মালামাল ও পার্সেল বুকিং: প্রতিটি টিকিটের বিপরীতে নির্দিষ্ট ওজনের লাগেজ বিনামূল্যে নেওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত বা ভারী মালামাল থাকলে স্টেশনের পার্সেল ভ্যানে বুকিং করে নিতে হবে।
  • টিকিট রিফান্ড পলিসি: কোনো কারণে যাত্রা বাতিল করতে হলে ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে অনলাইন বা কাউন্টার থেকে রিফান্ড রিকোয়েস্ট করলে সামান্য সার্ভিস চার্জ বাদে বাকি টাকা ফেরত পাবেন। সময় যত কমবে, রিফান্ড কাটার পরিমাণ তত বাড়বে। (০৬ ঘণ্টার কম সময় থাকলে কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না)।

রিলেটেড পোস্ট – রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়া

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?

উত্তর: আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে সাধারণত ৫ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। বিরতিহীন ট্রেন যেমন সুবর্ণ বা সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে সময় আরও কিছুটা কম লাগে (প্রায় ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট)।

২. সিটের টিকিট না পেলে কি দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট পাওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, যদি সিটের টিকিট শেষ হয়ে যায়, তবে ট্রেন ছাড়ার কিছু সময় আগে স্টেশন কাউন্টার থেকে ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ বা আসনবিহীন টিকিট কেনা যায়। এটি সাধারণত মোট আসনের ২৫% পর্যন্ত দেওয়া হয়।

৩. ঢাকা টু চট্টগ্রাম রুটে কোন ট্রেনটি সবচেয়ে ভালো?

উত্তর: দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ এবং ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ সবচেয়ে সেরা, কারণ এগুলো বিরতিহীন ট্রেন। রাতের ভ্রমণের জন্য ‘তূর্ণা এক্সপ্রেস’ বেশ জনপ্রিয়।

উপসংহার

আশা করি, আজকের এই পূর্ণাঙ্গ গাইডের মাধ্যমে ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া এবং অনলাইন টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট একটি ধারণা পেয়েছেন। আপনার আগামী ভ্রমণ সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক! আর কোনো তথ্য জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।

Leave a Comment