আপনি কি ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী (bhairab to dhaka train schedule) খুঁজছেন? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন।
এই আর্টিকেলে আমরা ভৈরব থেকে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, স্টপেজ এবং টিকিট বুকিং পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।
Vairob to Dhaka রুটে ট্রেন ভ্রমণ হলো সবচেয়ে নিরাপদ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম।
ভৈরব থেকে ঢাকা দূরত্ব ও সময়
ভৈরব থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৮০–৮৫ কিলোমিটার।
⏱️ ট্রেনে সময় লাগে সাধারণত ১.৫ থেকে ২.৫ ঘণ্টা।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেন নামের তালিকা
ভৈরব থেকে ঢাকা রেলপথে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর, মেইল এবং কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনগুলোর নাম জানা থাকলে আমাদের সুবিধা অনুযায়ী ট্রেন নির্বাচন করা সহজ হয়। নিচে ভৈরব থেকে ঢাকা রুটের আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেনের তালিকা দেয়া হলো:
ভৈরব থেকে ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেনের তালিকা:
- মহানগর গোধূলি
- পারাবত এক্সপ্রেস
- মহানগর এক্সপ্রেস
- এগারো সিন্ধুর প্রভাতী
- উপবন এক্সপ্রেস
- তূর্ণা এক্সপ্রেস
- এগারো সিন্ধুর গোধূলি
- কালনী এক্সপ্রেস
- কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস
ভৈরব থেকে ঢাকা মেইল ও কমিউটার ট্রেনের তালিকা:
- ঢাকা মেইল
- কর্ণফুলী এক্সপ্রেস
- সুরমা মেইল
- ঢাকা এক্সপ্রেস
- তিতাস কমিউটার
- ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস
- চট্টলা এক্সপ্রেস
- কুমিল্লা কমিউটার
দ্রষ্টব্য: সব ট্রেন ভৈরব স্টেশনে থামে না। যাত্রার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী (আন্তঃনগর)
সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য ট্রেনের সঠিক সময়সূচী জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ভৈরব থেকে ঢাকা চলাচলকারী বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস | রাত ০৮:৫৩ | রাত ১০:৪০ | মঙ্গলবার |
| মহানগর গোধূলি | সন্ধ্যা ০৭:৪৪ | রাত ০৯:২৫ | নেই |
| মহানগর এক্সপ্রেস | বিকেল ০৫:১০ | সন্ধ্যা ০৭:১০ | রবিবার |
| এগারো সিন্ধুর প্রভাতী | সকাল ০৮:১০ | সকাল ১০:৩০ | বুধবার |
| উপবন এক্সপ্রেস | রাত ০৪:৪৭ | সকাল ০৬:৪৫ | বুধবার |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস | রাত ০৩:২৭ | ভোর ০৫:১৫ | নেই |
| এগারো সিন্ধুর গোধূলি | দুপুর ০২:৪৫ | বিকেল ০৫:০৫ | বুধবার |
| কালনী এক্সপ্রেস | সকাল ১০:৫৫ | দুপুর ০১:০০ | শুক্রবার |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস | বিকেল ০৫:৪৫ | রাত ০৮:১০ | শুক্রবার |
(বি.দ্র: বাংলাদেশ রেলওয়ে যেকোনো সময় ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তন করতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।)
ভৈরব টু ঢাকা মেইল ও কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী
মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলো সাধারণত আন্তঃনগর ট্রেনের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নেয়, কারণ এগুলো বেশি স্টেশনে থামে। তবে এগুলোর ভাড়াও তুলনামূলক কম থাকে।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|
| ঢাকা মেইল | রাত ০৪:২৭ | সকাল ০৬:৫৫ | নেই |
| কর্ণফুলী এক্সপ্রেস | বিকেল ০৪:৩০ | সন্ধ্যা ০৭:৪৫ | নেই |
| সুরমা মেইল | ভোর ০৫:০৭ | সকাল ০৯:১৫ | নেই |
| ঢাকা এক্সপ্রেস | রাত ০২:১৭ | সকাল ০৬:৪০ | নেই |
| তিতাস কমিউটার | দুপুর ১২:৫৯ | বিকেল ০৩:১৫ | নেই |
| ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস | বিকেল ০৫:৪০ | রাত ১১:০০ | নেই |
| চট্টলা এক্সপ্রেস | দুপুর ০১:৪৮ | বিকেল ০৩:০০ | মঙ্গলবার |
| কুমিল্লা কমিউটার | সকাল ০৮:৫৮ | দুপুর ১২:৫০ | মঙ্গলবার |
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের বিরতি স্টেশন (Stoppages)
ভৈরব থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। তবে মনে রাখবেন, আন্তঃনগর ট্রেনগুলো খুব কম স্টেশনে থামে, অন্যদিকে মেইল ট্রেনগুলো প্রায় সব লোকাল স্টেশনেই থামে। প্রধান যে স্টেশনগুলোতে বেশিরভাগ আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন থামে, তা হলো:
- মেথিকান্দা (শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মেইল/কমিউটার ট্রেন)
- নরসিংদী
- ঢাকা বিমানবন্দর (Airport)
- তেজগাঁও (কিছু নির্দিষ্ট ট্রেন)
- ঢাকা কমলাপুর (শেষ গন্তব্য)
আপনার গন্তব্য যদি উত্তরা বা বনানী এলাকার দিকে হয়, তবে বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যাওয়া আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
ভৈরব থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া আপনার নির্বাচিত সিটের বা বগির ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ সিট থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কেবিন পর্যন্ত নানা ব্যবস্থা রয়েছে:
- শোভন: ৮৫ টাকা
- শোভন চেয়ার: ১০৫ টাকা
- ফার্স্ট সিট: ১৩৫ টাকা
- ফার্স্ট বার্থ: ২০৫ টাকা
- স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার): ১৯৬ টাকা (ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ ব্যতীত)
- এসি সিট: ২৩৬ টাকা (ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ ব্যতীত)
- এসি বার্থ: ৩৫১ টাকা (ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ ব্যতীত)
(বি.দ্র: ভাড়া পরিবর্তনশীল। অনলাইনে টিকিট কাটলে এর সাথে ২০ টাকা অনলাইন সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে।)
টিকিট কিভাবে কাটবেন? (Online & Offline)
ট্রেনের টিকিট এখন আগের চেয়ে অনেক সহজে কাটা যায়। আপনি দুটি উপায়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন:
১. অনলাইন বুকিং: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারবেন। অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।
২. স্টেশন কাউন্টার: আপনি চাইলে সরাসরি ভৈরব বাজার জংশনের টিকিট কাউন্টারে গিয়েও আপনার NID দেখিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
পড়ুন – বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকেট বুকিং গাইড
ভ্রমণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- ভ্রমণের সময় নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) মূল কপি বা ফটোকপি অবশ্যই সাথে রাখুন, কারণ টিটিই (TTE) যেকোনো সময় তা চেক করতে পারেন।
- টিকিট ছাড়া ভ্রমণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, তাই অবশ্যই টিকিট কেটে ট্রেনে উঠবেন।
উপসংহার
এই আর্টিকেলে আমরা ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া এবং টিকিট সংক্রান্ত সকল তথ্য তুলে ধরেছি।আপনি যদি নিয়মিত bhairab to dhaka train schedule খুঁজে থাকেন, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্য খুবই সহায়ক হবে।
প্রিয় পাঠক, আশা করি এই পোস্টটি আপনার জন্য উপকারী হয়েছে। যদি পোস্টটি পড়ে আপনি সামান্যতম হলেও উপকৃত হন, তবে এটি আপনার বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ট্রেনের সময়সূচী বা ভাড়া সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে দ্বিধা করবেন না। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদ ভ্রমণ করুন। আল্লাহ হাফেজ।