ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহর খুলনা কিংবা খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকায় আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের প্রথম পছন্দ চিত্রা এক্সপ্রেস (Chitra Express)। দীর্ঘ পথের এই যাত্রায় ক্লান্তি দূর করতে এবং সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে এই ট্রেনটির কোনো বিকল্প নেই। আজকের ব্লগে আমরা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন, সর্বশেষ ভাড়ার তালিকা এবং টিকেট কাটার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন সম্পর্কে তথ্য
বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিসের মধ্যে চিত্রা এক্সপ্রেস একটি অন্যতম জনপ্রিয় নাম। এটি মূলত ঢাকা ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী একটি দ্রুতগতির ট্রেন।
ট্রেন নম্বর: ৭৬৩ (খুলনা থেকে ঢাকা) এবং ৭৬৪ (ঢাকা থেকে খুলনা)।
বগির সংখ্যা: সাধারণত ১০ থেকে ১২টি বগি নিয়ে চলাচল করে (চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে)।
আসন সংখ্যা: প্রায় ৭৮০টির মতো।
সাপ্তাহিক ছুটি: চিত্রা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি সোমবার (খুলনা থেকে ছাড়ার ক্ষেত্রে)। তবে ঢাকা থেকে ফেরার পথে এটি সোমবার দিবাগত রাতে চলাচল করে।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
যাত্রার পূর্বে ট্রেনের সঠিক সময় জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিত্রা এক্সপ্রেস প্রতিদিন ঢাকা ও খুলনার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা শুরু করে। নিচে এর বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:
ঢাকা থেকে খুলনা (৭৬৪)
| স্টেশন | ছাড়ার সময় | গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|
| ঢাকা (কমলাপুর) | সন্ধ্যা ০৭:০০ | রাত ০৩:৪০ | নেই (মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছায়) |
খুলনা থেকে ঢাকা (৭৬৩)
| স্টেশন | ছাড়ার সময় | গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি |
|---|---|---|---|
| খুলনা রেলওয়ে স্টেশন | সকাল ০৯:০০ | বিকাল ০৫:৫৫ | সোমবার |
নোট: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সূচী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে স্টেশনে যোগাযোগ করা শ্রেয়।
চিত্রা এক্সপ্রেসের বিরতি স্টেশনসমূহ
ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলের সময় চিত্রা এক্সপ্রেস গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। আপনি চাইলে আপনার সুবিধাজনক স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে বা নামতে পারেন। বিরতি স্টেশনগুলো হলো:
- ঢাকা বিমানবন্দর
- জয়দেবপুর
- বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব ও পশ্চিম)
- শহীদ এম মনসুর আলী
- উল্লাপাড়া
- বড়াল ব্রিজ
- চাটমোহর
- ঈশ্বরদী
- ভেড়ামারা
- মিরপুর
- পোড়াদহ
- আলমডাঙ্গা
- চুয়াডাঙ্গা
- দর্শনা হল্ট
- কোটচাঁদপুর
- মোবারকগঞ্জ
- যশোর
- নওয়াপাড়া
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা (সর্বশেষ আপডেট)
চিত্রা এক্সপ্রেসের ভাড়া নির্ধারিত হয় আসনের ক্যাটাগরি বা ক্লাসের ওপর ভিত্তি করে। নিচে ২০২৬ সালের আপডেট ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো (ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জসহ কম-বেশি হতে পারে):
| আসনের ধরন | ভাড়ার পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৫০৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (AC Chair) | ৯৬৬ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ১১৫৬ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ১৭৩২ টাকা |
(উল্লেখ্য: ভাড়ার হার বাংলাদেশ রেলওয়ে যেকোনো সময় পরিবর্তন করার অধিকার রাখে। সর্বশেষ ভাড়া জানতে অনলাইন পোর্টাল চেক করুন।)
গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট – বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকেট বুকিং গাইড
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. চিত্রা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?
খুলনা থেকে ঢাকা আসার পথে (৭৬৩) ট্রেনটি প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে। তবে ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে (৭৬৪) এর কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ নেই।
২. ঢাকা থেকে খুলনা পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
চিত্রা এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে খুলনা পৌঁছাতে সাধারণত ৮ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় লাগে।
৩. চিত্রা এক্সপ্রেসে কি খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, এই ট্রেনে একটি ক্যাফেটেরিয়া বা খাবার গাড়ি রয়েছে যেখানে হালকা নাস্তা ও চা-কফি পাওয়া যায়।
উপসংহার
নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কে জানা থাকলে আপনার পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে টিকেটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, তাই অন্তত ৩-৫ দিন আগে টিকেট সংগ্রহ করার পরামর্শ রইল।
আশা করি আজকের এই পোস্টটি আপনার ভ্রমণে সহায়ক হবে। পোস্টটি উপকারী মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!